Mehjabin Chowdhury Viral Video: মাছরাঙা টিভির Instagram ভুয়া AI ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ মেহজাবীন, প্রশ্ন বিবেক নিয়ে

Mehjabin Chowdhury Viral Video: মাছরাঙা টিভির Instagram ভুয়া AI ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ মেহজাবীন, প্রশ্ন বিবেক নিয়ে
00:01:20

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারকাদের মুখ বসিয়ে তৈরি করা ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে কবে থেকে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে?

সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমণিকে ঘিরে তৈরি কিছু ভুয়া ভিডিও প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। পরে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে ভিডিওগুলো সম্পাদিত বলে উঠে আসে।

কী ঘটেছিল মাছরাঙা টিভির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে?

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি কিছু ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলোতে মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমণির মুখ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ঘটনার পর মাছরাঙা টেলিভিশন জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার পর আপত্তিকর কনটেন্টগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়।

তবে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নও ওঠে।

Mehezabin Chodhury ভিডিওগুলো কি আসল ছিল?

না। ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত ভিডিওগুলো আসল ছিল না। অন্য ভিডিওতে ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীদের মুখ বসিয়ে সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

ফেস-সোয়াপ হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার সাহায্যে একটি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির মুখের জায়গায় অন্য ব্যক্তির মুখ বসানো যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে এ ধরনের সম্পাদনা অনেক সময় সাধারণ দর্শকের কাছে বাস্তব বলে মনে হতে পারে।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। বিশেষ করে কারও সম্মানহানি হতে পারে—এমন ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

মেহজাবীনের ক্ষোভ: অন্যের অসম্মান কি উপার্জনের মাধ্যম?

ঘটনাটি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়।

মেহজাবীন শুধু ভুয়া ভিডিও তৈরিকারীদের নয়, সেগুলো জেনেশুনে শেয়ার করা ব্যক্তিদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে এনেছেন। তাঁর মতে, একজনকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট অন্যরা শেয়ার করলে সেটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে অপমান ও হয়রানির পরিসরও বাড়তে থাকে।

অন্যের অসম্মান থেকে ভিউ, জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ উপার্জনের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেই কাউকে অপমান করার অধিকার তৈরি হয় না।

শুধু ভিডিও তৈরি নয়, শেয়ার করাও কেন উদ্বেগের বিষয়?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পেছনে শুধু মূল নির্মাতাই ভূমিকা রাখেন না। অনেকে সত্যতা যাচাই না করেই ভিডিওটি শেয়ার করেন, মন্তব্য করেন কিংবা অন্যদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে কনটেন্টটির প্রচার আরও বাড়ে।

কোনো ভিডিও ভুয়া জেনেও সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত মর্যাদা, সামাজিক অবস্থান ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আবার ভিডিওটি সত্য কি না, তা না জেনে শেয়ার করলেও ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

এ কারণে মেহজাবীনের বক্তব্যে ব্যক্তিগত বিবেক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব রয়েছে—কোনো কনটেন্ট অন্য কারও ক্ষতি করতে পারে কি না, তা বিবেচনা করে দেখা।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, বিনোদন ও সৃজনশীল কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করা সম্ভব। সম্মতি ছাড়া কারও মুখ ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এ ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত করার প্রযুক্তি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত সমাধানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আচরণেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

কোনো ভিডিও সন্দেহজনক মনে হলে সেটি শেয়ার না করা, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা এবং প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজন অনুযায়ী রিপোর্ট করাই দায়িত্বশীল আচরণ।

মেহজাবীন চৌধুরীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে অপমান করা যেমন অনৈতিক, তেমনি সেই অপমানকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের দায়িত্ব রয়েছে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভুয়া ভিডিওর ঘটনা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার, অনলাইন হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।

প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, তথ্য যাচাই ও ব্যক্তিগত বিবেকের গুরুত্বও তত বাড়বে। কোনো কনটেন্ট ভাইরাল হয়েছে বলেই সেটি সত্য নয়—আর কারও মুখ ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিওও তাঁর বাস্তব কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়।